গল্পের নাম: জরিমানা
প্রথম অংশ: সুযোগ
রাতের অন্ধকারে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শফিক। চারপাশে নিস্তব্ধতা, শুধুমাত্র গাছে পাতার মৃদু শব্দ শুনা যাচ্ছিল। শফিক একা, তার চোখে চিন্তার ছাপ। মাসের শেষ, হাতে টাকার টান। কীভাবে সংসার চলবে, সে ভাবছে। এমন সময়, রাস্তার ধারে একটা ছোট্ট খোলা দোকান দেখে তার চোখ ঝলসে ওঠে। দোকানের সামনে একটা ছোট্ট বাক্সে মুদ্রা রাখা ছিল।
শফিকের মনে হঠাৎ এক অজানা বাসনা জাগে। যদি সে ঐ মুদ্রাগুলো নিয়ে নেয়, তবে আজ রাতে সে এবং তার পরিবার একটু ভালো খেতে পারবে। এমন সুযোগ তার আগে কখনো আসেনি।
দ্বিতীয় অংশ: সিদ্ধান্ত
শফিক ধীরে ধীরে দোকানের দিকে এগিয়ে যায়। সে তার চারপাশটা দেখে নেয়, কোনো মানুষ নেই। কোনো পুলিশও নেই। সে মনে মনে ভাবতে থাকে, “যদি কেউ আমাকে ধরতে না পারে, তাহলে এতে ক্ষতি কী?”
তার হাত মুদ্রার বাক্সের দিকে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ঠিক তখনই, তার মনের গভীরে একটা প্রশ্ন জাগে—এটা কি ঠিক হবে? অন্যের অর্থ নিয়ে নিজের সুবিধা করা কি সত্যিই সঠিক?
তৃতীয় অংশ: পরিবর্তন
শফিকের হাত তখনো বাক্সের উপরে, কিন্তু সে আর এগোয় না। তার মনে পড়ে যায় নিজের শৈশবের কথা, যখন তার মা তাকে সততা শেখাতেন। “সততা কখনো সহজ নয়, কিন্তু এটা তোমার চরিত্র গড়ে তোলে,” মা বলতেন। শফিক এক ধাক্কায় হাত সরিয়ে নেয়।
সে পিছিয়ে আসতে শুরু করে, আর তখনই দোকানদার এসে হাজির। দোকানদার শফিককে দেখে অবাক হন, “তুমি কী করছিলে?” শফিক চমকে ওঠে, কিন্তু সত্য গোপন করতে পারে না। সে দোকানদারকে সব খুলে বলে।
চতুর্থ অংশ: ফলাফল
দোকানদার শফিকের কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর হাসি দিয়ে বলে, “তুমি মুদ্রাগুলো নিতে পারতে, কিন্তু তুমি তা করোনি। এটা তোমার সততার প্রমাণ। তোমার এই সততার জন্য আমি তোমাকে পুরস্কৃত করতে চাই। এখান থেকে মুদ্রাগুলো নিয়ে যাও, এটা তোমার জরিমানা। তোমার পরিবারের জন্য একটু ভালো খাবার কিনো।”
শফিক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। সে কখনো ভাবেনি যে সততার জন্য এমন পুরস্কার পাবে। সে ধন্যবাদ জানিয়ে দোকান থেকে চলে আসে, হাতে সেই মুদ্রাগুলো নিয়ে। তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বোধ হতে থাকে।
গল্পের মাধ্যমে শফিকের সততার উদাহরণ এবং তার ফলাফল বর্ণনা করা হয়েছে। এই গল্পটি সম্পূর্ণ মৌলিক এবং কোনো কপিরাইট সমস্যা বা পোস্ট রিমুভের শঙ্কা নেই।

Post a Comment